.

প্রিয় কবি

অঞ্জন সরকার জিমি অমিত চক্রবর্তী অমিতাভ দাশ গুপ্ত অশোক দেব আন্দালীব আবিদ আজাদ আবুল হাসান আল মাহমুদ আলতাফ হোসেন আহসান হাবীব খোন্দকার আশরাফ হোসেন জয় গোস্বামী জীবনানন্দ দাশ টোকন ঠাকুর তানিম কবির দীপন চক্রবর্তী নবনীতা দেবসেন নির্মলেন্দু গুন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পূর্ণেন্দু পত্রী ফয়সল রাব্বি ফারাহ সাঈদ বিনয় মজুমদার বুদ্ধদেব বসু ব্রাত্য রাইসু ভাস্কর চক্রবর্তী মজনু শাহ মন্দাক্রান্তা সেন মহাদেব সাহা মাসুদ খান মুহাম্মদ মরিয়ম মৌ ভট্টাচার্য রণজিৎ দাশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রিফাত হাসান রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ শক্তি চট্টোপাধ্যায় শঙ্খ ঘোষ শহীদ কাদরী শোয়েব শাদাব শ্বেতা চক্রবর্তী সমর সেন সমুদ্র গুপ্ত সরকার আমিন সাইয়েদ জামিল সিকদার আমিনুল হক সুকান্ত ভট্টাচার্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুনীল সাইফুল্লাহ সুবোধ সরকার সুমন রহমান হুমায়ুন আজাদ হুমায়ূন আহমেদ হেলাল হাফিজ
তানিম কবির লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তানিম কবির লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

তুমি শর্মি

তুমি শর্মি
- তানিম কবির 


তুমি শর্মি, আমি তোমাকে, এই বৃষ্টির, কিছু গুণাগুণ, নিয়ে বলব
বৃষ্টি পড়ার দিনটায়, শর্মি তোমাকে ডাকলাম
বললাম, তুমি শর্মি, তুমি বৃষ্টি পড়ার দিনটা
চলো ভৈরব, চলো তিনদিন, তুমি মেঘনার
ঘাটে থাকবা। আরো বললাম, তুমি চাইলে
টানা বৃষ্টির, এই মৌসুম, আশুগঞ্জের উঁচু
প্লাটফর্ম, ধরে হাঁটবা, খালি হাঁটবা। তুমি শর্মি
তুমি পুরনো, কোনো বৃষ্টিতে ভেজা ওয়াগন
ধরে দেখবা। ভিজে পিচ্ছিল, কালো পাটাতন
নিজে বসবার, করে ঘষবা। চারিপার্শ্বে
চির চারপাশ, বসবাসহীন, করে তুলবা, তুমি
আই থিংক, তুমি পারবা। পোষা কচ্ছপটাকে
সঙ্গেই, নিয়ে নিচ্ছো? ব্যাগে থাকল—সেটা
সুন্দর। তাকে রেইনকোট, কিনে দিচ্ছো?
দিও দিও তো! প্রতিনিয়ত, দেখো বৃষ্টি, টানা
বৃষ্টি—ফাঁকে ফোকরে তারই ছাঁটেরা, উড়ে
যাচ্ছে। ঘোলা বাষ্পে, চলো মিশ খাই, চলো
শর্মি, ভেজা রেলব্রিজ, হাতে আমব্রেলা, পায়ে
ফস্কাই।

এইদেশে বৃষ্টি হয়; রাইট!

এইদেশে বৃষ্টি হয়; রাইট!
- তানিম কবির


তবে আমি বৃষ্টির কবিতা লিখবো,
এটা বলতে পারি।
একদিন, মানে কোনও একদিন
বৃষ্টি থেমে গেলে মনে হয় যেমন ‘ও আচ্ছা!’
সেরকম হুট করে টের পাওয়ার অঙ্গভঙ্গি সহকারে
বৃষ্টির কবিতা লেখা দরকার।
যেহেতু ‘এইদেশে বৃষ্টি হয়’—
আর ছাতার মিস্তিরিরা ভোট দিতে যায়;
মেরামত করা কালো ছাতা নিয়ে তাই,
বৃষ্টির কবিতা লিখতে চাই আমিও...

যতদূর মনে পড়ে,
টেবিল ফ্যানের ঝড়ো বাতাসের সামনে দাঁড়িয়ে
কেউ শুকাইতে দিছিলো নিজেরে— সে কি শুকিয়েছিলো?
এই প্রশ্নটিকেই আজ বড় করে দেখে যদি,
ততধিক গুরুত্বে আনি যদি সেইসব আধভাঙা মন্দির;
ভাঙা তবু গল্পের প্রয়োজনে যারা
গ্রামেতে বেড়াতে আসা ছেলে আর মেয়েটিকে
আশ্রয় দিয়েছিলো উষ্ণ-সরস...

এমনও ভাবনা আসে যে,
বৃষ্টি বিষয়ে কোনো কবিতায়
কতবার ‘বৃষ্টি’ শব্দটাকে বলা-কওয়া যাবে?
একই শব্দের ঘন ঘন ব্যবহার
যদি বা ভালো না লাগে খান সাহেবের!
এই ফর্ম পুরানা, বলে দেয় যদি—
যদি প্রকাশিত হয়ে পড়ে এই,
আশিপরবর্তী কবিতার ‘মেইনস্ট্রিমে’
আমার নামটি আর নেই!
বৃষ্টির এ আবেগ সংবরণে ব্যর্থ আমি—
যদি প্রমাণিত হয়...

আহারে সে প্রমাণ আমি,
টিসি নিয়া বিমর্ষ রেইনকোট গায়ে পরে
কোথায় যে হারাবো তখন।
ধরি গ্রামে চলে যাবো—
উপজেলা হাসপাতালের বেডে শুয়ে রবো,
শুয়ে শুয়ে তাকাবো বারান্দা অভিমুখে,
বারান্দাজুড়ে ব্যাঙ শুশ্রুষাকামী ঠ্যাং
মেলে তারা লাফ দিতে পারে।
রাস্তায় জমে থাকা পানি উপর দিয়ে
ফনিক্স সাইকেল এক চলে গেলে পরে,
আমার ভিতরে কিছু তরঙ্গায়িত—
এই ভীত অনুমান ভিজে-টিজে যাবে হয়তো বা...

কেটে যাচ্ছে মালিহা জেরিন

কেটে যাচ্ছে মালিহা জেরিন
- তানিম কবির


কেটে যাচ্ছে মালিহা জেরিন
ফর্সা হচ্ছে আলো—

মধ্যনদীতে গাড়া ব্রিজের পিলার
ছায়া তার বসে আছে কূলে

চলন্ত  ট্রেনের ছায়ায়
দ্বিখণ্ডিত রোদের ফিনকি ওঠা
বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছো
দ্রুতগামী ঘ্রাণ, স্লিপারে পাথরে
এতো এতো স্তুতিগান
স্বরবৃত্তে দুলে ওঠা লোহার বাগান
সরে যাচ্ছে ক্রমশ

...ফর্সা হচ্ছে আলো

ঐকান্তিক মাউথঅর্গ্যানের সুর
মুছে দিচ্ছে ভ্যাসলিন
ঘনিষ্ঠ ঠোঁট থেকে নিভে যাচ্ছে
বিকীর্ণ শীতের সকাল
জংশন ইয়ার্ডে ছিটিয়ে রাখা
ব্রেকভ্যান, গমের বগি
নড়ে উঠছে হঠাৎ
চাকায় লিখিত দুটি নাম
গড়িয়ে চলে যাচ্ছো


কেটে যাচ্ছে মালিহা জেরিন…

সেমিজের ভীষণ সেলাইগুলো
আলগা হচ্ছে আঁধারে
অনুমেয় নাভির নিকটে খসে
পড়ছে নৈঋতের গিঁট
তারকাপতনের দৃশ্যগুলো জমে
আছে শরদিন্দু তিলে
অনড় অমিলে ঝাপটানো শ্লোক
মুখস্ত করছো কি
শবচিরকূট— ত্রোস্তশামুক?