.

প্রিয় কবি

অঞ্জন সরকার জিমি অমিত চক্রবর্তী অমিতাভ দাশ গুপ্ত অশোক দেব আন্দালীব আবিদ আজাদ আবুল হাসান আল মাহমুদ আলতাফ হোসেন আহসান হাবীব খোন্দকার আশরাফ হোসেন জয় গোস্বামী জীবনানন্দ দাশ টোকন ঠাকুর তানিম কবির দীপন চক্রবর্তী নবনীতা দেবসেন নির্মলেন্দু গুন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পূর্ণেন্দু পত্রী ফয়সল রাব্বি ফারাহ সাঈদ বিনয় মজুমদার বুদ্ধদেব বসু ব্রাত্য রাইসু ভাস্কর চক্রবর্তী মজনু শাহ মন্দাক্রান্তা সেন মহাদেব সাহা মাসুদ খান মুহাম্মদ মরিয়ম মৌ ভট্টাচার্য রণজিৎ দাশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রিফাত হাসান রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ শক্তি চট্টোপাধ্যায় শঙ্খ ঘোষ শহীদ কাদরী শোয়েব শাদাব শ্বেতা চক্রবর্তী সমর সেন সমুদ্র গুপ্ত সরকার আমিন সাইয়েদ জামিল সিকদার আমিনুল হক সুকান্ত ভট্টাচার্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুনীল সাইফুল্লাহ সুবোধ সরকার সুমন রহমান হুমায়ুন আজাদ হুমায়ূন আহমেদ হেলাল হাফিজ
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সাকুল্যে তিনজন

সাকুল্যে তিনজন
- নীরেন্দ্রনাথ চক্রব্রর্তী

এই গলিতে সদ্য একটা ফ্ল্যাটবাড়ি উঠেছে।
প্রতিটি তলায়
আগুপিছু চারটি করে ফ্ল্যাট। তাতে দুটি
বেডরুমের সঙ্গে একটি ছোট
বারান্দা ও রান্নাঘর। তার পাশে লাগোয়া
কলঘর, এবং কায়দা করে
ওই যাকে লিভিং কাম ডাইনিং সবাই
বলে থাকে।

কলকাতা শহরে ঝাঁকে-ঝাঁকে
আজকাল সর্বত্র উঠছে এইরকম বাড়ি।
জায়গা বড্ড কম? কিন্তু উপায় কী বলুন,
চলছে যা সময়।
যে-ভাবে টাকার দাম পড়ছে হুহু করে,
পাঁচ লাখা টাকায় তাতে এর বেশি কে পাচ্ছে বা কোথায়?
চক্ষের পলক
ফেলতে-না ফেলতেই তাই এসে গেছে ছ'-সাতটি ফ্যামিলি।

ভাবলুম জিজ্ঞেস করিঃ ওরে, তোরা তৈরি হয়েছিলি
কোন কারখানায় কোন মিস্তিরির হাতে?
এ যে দেখছি সব ক'টাই এক ছাঁচে বানানো।
ফুলপ্যান্ট যুবার পাশে শাড়িতে যুবতী,
সঙ্গে একটি হাফপ্যান্ট বালক।
কিংবা একটি বার্বি-ডলপুতুলের মতো
ববছাঁট বালিকা।
সাকুল্যে তিনজনকে নিয়ে এক-একটি সংসার।

ছোট ফ্ল্যাট, জায়গা নেই আর।
সেই কারণে, ধরে নিচ্ছি, যুবকের বাপ-মা মরে গেছে।
ফলত যুবতীটিরও নেই
শ্বশুর-শাশুড়ি। তবে তাঁরা
থাকলেও তাঁদের এই ফ্ল্যাটে নিয়ে আসা
সম্ভব হত না।
জায়গা নিয়ে বড্ড বেশি টানাটানি হত
তিনজনের ফ্ল্যাটে ঢুকলে চারজনে-পাঁচজনে।

যে কারণে বাপ-মা নেই, সেই একই কারণে
বিধবা পিসিও থাকতে নেই।
বাউন্ডুলে কাকা কিংবা বেকার ভাগ্নেও থাকতে নেই।
এমনকী, বাচ্চাটারও একটি ভাই কিংবা একটি বোন
থাকতে নেই।
মোদ্দা কথা, জায়গা নেই আর।
তিনজনের জন্যে এটা বানানো হয়েছে, সুতরাং
তিনজনের ফ্ল্যাটে থাকবে তিনজনেরই ছোট্ট পরিবার।

অমলকান্তি


অমলকান্তি
- নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

অমলকান্তি আমার বন্ধু,
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম।
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসতো, পড়া পারত না,
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে,
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের।
আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি।
সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল!
ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর,
জাম আর জামরুলের পাতায়
যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে।
আমরা কেউ মাষ্টার হয়েছি, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি।
সে এখন অন্ধকার একটা ছাপাখানায় কাজ করে।
মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে;
চা খায়, এটা-ওটা গল্প করে, তারপর বলে, “উঠি তাহলে।”
আমি ওকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি।
আমাদের মধ্যে যে এখন মাষ্টারি করে,
অনায়াসে সে ডাক্তার হতে পারত,
যে ডাক্তার হতে চেয়েছিল,
উকিল হলে তার এমন কিছু ক্ষতি হত না।
অথচ, সকলেরই ইচ্ছেপূরণ হল, এক অমলকান্তি ছাড়া।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি।
সেই অমলকান্তি–রোদ্দুরের কথা ভাবতে-ভাবতে
ভাবতে-ভাবতে
যে একদিন রোদ্দুর হতে চেয়েছিল।