.

প্রিয় কবি

অঞ্জন সরকার জিমি অমিত চক্রবর্তী অমিতাভ দাশ গুপ্ত অশোক দেব আন্দালীব আবিদ আজাদ আবুল হাসান আল মাহমুদ আলতাফ হোসেন আহসান হাবীব খোন্দকার আশরাফ হোসেন জয় গোস্বামী জীবনানন্দ দাশ টোকন ঠাকুর তানিম কবির দীপন চক্রবর্তী নবনীতা দেবসেন নির্মলেন্দু গুন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পূর্ণেন্দু পত্রী ফয়সল রাব্বি ফারাহ সাঈদ বিনয় মজুমদার বুদ্ধদেব বসু ব্রাত্য রাইসু ভাস্কর চক্রবর্তী মজনু শাহ মন্দাক্রান্তা সেন মহাদেব সাহা মাসুদ খান মুহাম্মদ মরিয়ম মৌ ভট্টাচার্য রণজিৎ দাশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রিফাত হাসান রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ শক্তি চট্টোপাধ্যায় শঙ্খ ঘোষ শহীদ কাদরী শোয়েব শাদাব শ্বেতা চক্রবর্তী সমর সেন সমুদ্র গুপ্ত সরকার আমিন সাইয়েদ জামিল সিকদার আমিনুল হক সুকান্ত ভট্টাচার্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুনীল সাইফুল্লাহ সুবোধ সরকার সুমন রহমান হুমায়ুন আজাদ হুমায়ূন আহমেদ হেলাল হাফিজ
রণজিৎ দাশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রণজিৎ দাশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কেবলই কলহ শুনি

কেবলই কলহ শুনি
- রণজিৎ দাশ


যখন বিষণ্ণ থাকি

যখন বিষণ্ণ থাকি 
- রণজিৎ দাশ 


জোড়া রাজহাঁস

জোড়া রাজহাঁস
- রণজিৎ দাশ

আশীর্বাদ করি আজ, পৃথিবীর মানুষেরা, তোমাদের
সব্জির বাজার যেন সবুজ পালং শাকে ভরে ওঠে, যেন
তোমাদের জিভ, দাঁত, লালা ও ঢেঁকুর অন্ন ও মাছের স্বাদে
তৃপ্ত থাকে; গৌতম বুদ্ধের হাতে তোমাদের নারী যেন
সোনার কাঁচুলি খুলে তুলে দেয় জোড়া রাজহাঁস -
                                                 শ্রেষ্ঠ সন্তানের লোভে,
গৌতম বুদ্ধকে আমি আশীর্বাদ করি, - জোড়া রাজহাঁস - এই
কোমল শিল্পের চাপে যেন তাঁর নির্বাণের মোহ ভেঙে যায়।
---
  

গ্যারেজ-২

গ্যারেজ-২
- রণজিৎ দাশ


ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির মধ্যে যে ধূসর তফাৎ, সেখানে চুপ করে বসে আছেন এক মহিলা সাংবাদিক। শহরতলির গ্যারেজ নির্জন, থমথমে। খবরটা যাবে তিনের পাতায়, সিনেমার বিজ্ঞাপনের ওপরে। মেয়েটির পরিচয় গোপন রাখতে হবে। একটু দূরে, গ্যারেজ-মালিকের মেজো ছেলের সঙ্গে নিচু গলায় কথা বলছেন থানার বড়বাবু। তাঁর মাথার পিছনে সূর্যাস্ত। উঠোনের বাঁপাশে মাটিতে গেঁথে আছে একটা বহু পুরনো, বাতিল, ঢাউস গাড়ি।। ভাঙা হেডলাইটের অন্ধকার কোটর থেকে সে সতর্ক চোখে লক্ষ্য করছে সব কিছু। দূরে, কারখানার চিমনিতে ঝুলে আছে ছেঁড়া ব্লাউজের মতো একখন্ড লাল মেঘ।   



মেট্রো রেল

মেট্রো রেল
- রণজিৎ দাশ


স্নানরতা যুবতীর
অবচেতনের মতো
সুন্দর এই সুড়ঙ্গ

চলন্ত, ইশারাময় সিঁড়ি
ধরে নেমে এলে
গান, আলো, উন্মুখ পাতাল

কফিনের ফিসফিস, যেন
ঝিঁঝিঁদের স্তনের ওপর
জেগে আছে শিকড়ের থাবা

সূর্য ও সংযমহীন
বাসস্টপের বিষণ্ণ প্রতীক্ষাহীন
এই পাতালপথ, তেত্রিশ মিনিটে

লজ্জা থেকে লিবিডো-অব্দি যাবে।   


সামুদ্রিক পরামর্শ

সামুদ্রিক পরামর্শ
- রণজিৎ দাশ 

সমুদ্রে যেও না তুমি, যদি না সঙ্গে থাকে
                             কোনো শক্ত-সমর্থ যুবতী
কে খেলবে ঢেউ-এর সঙ্গে? কার তীব্র হাসির আওয়াজে
ভয় পাবে লোনা জল? কে তোমাকে দু’বার বাঁচাবে
ব্রেকার-এর হাত থেকে – সৈকতে ও নীল বেডরুমে।
কার নগ্ন পায়ে পায়ে জেগে উঠবে ফেনা, সিন্ধুরতি?

সমুদ্রে যেও না তুমি, সঙ্গে নিয়ে
                         কোনো শক্ত-সমর্থ যুবতী
ভীষণ অনর্থ হবে – সে নারী পালিয়ে যাবে
                        সমুদ্রের সঙ্গে, রাত্রিবেলা
তুমি সারারাত একটি বৃদ্ধা ডাইনির সঙ্গে সাপলুডোখেলা
শেষ করে তাকে ফের খুঁজে পাবে কাকভোরে,
                                           হোটেল-লাউঞ্জে
হাসিমুখে সে তোমাকে দিয়ে যাবে সমুদ্রের সন্তান-সন্ততি!

তবুও সমুদ্রে যেও, সঙ্গে নিয়ে একটি শক্ত-সমর্থ যুবতী
সন্ধ্যাবেলা চাঁদ উঠলে বিনীত প্রস্তাব দিও, পেয়ে যাবে
                                                 চুম্বন, সম্মতি!



পর্যটন বিষয়ে শেষ কবিতা

পর্যটন বিষয়ে শেষ কবিতা
- রণজিৎ দাশ

সমুদ্রে বেড়াতে আসি, নারী নিয়ে, মদ নিয়ে, 
                                   শূন্যতা ও ব্লু-ফিল্ম নিয়ে, 
যে নারী আমাকে সঙ্গে আনে, তারও হাফ প্যান্ট, হলুদ নাইটি –
পুরুষ স্বাধীন। তার দু’চোখে ঈগলদৃষ্টি, সে বলে – ‘ভাইটি,
কাঁচুলিটা খুলে দাও, ব্যাথা লাগে! পমফ্রেট মাছ ভেজে আনো।
মন খুব সাফ রেখো, এ হল সমুদ্র, শোনো জলের আহ্বানও!’
মন সাফ রাখি, কিন্তু মাথাটি গরম হয়, এত চিনি,
                          তবু এই নারীকে চিনি না
বিশাল সূর্যের নিচে ডাব খাই একা একা, লাইম-জিন বিনা
সি-বিচে গম্ভীর মুখে বসে থাকি, ভাবি, এই নিসর্গের প্রেম
সম্পূর্ণই মিথ্যা তবে? মূল কথা, জঙ্ঘা ও টোটেম
আঁশনোনা করে নিতে জলে নেমে আমাদের নগ্ন অশ্লীলতা?
এ-অবদমন থেকে মুক্তি দাও আমাদের, হে সমুদ্র, ঝড়ের দেবতা!
  


একটি দুঃখের কথা

একটি দুঃখের কথা 
- রণজিৎ দাশ

একটি দুঃখের কথা, পথে ও বিপথে ঘুরে,
প্রত্যাখ্যাত হতে হতে, গান হয়ে ওঠে।

শহরে, চলন্ত ট্রেনে, মন্দিরের পথে
শোনা যায় সেই গান- ধুলোমাখা, অন্ধ, মায়াময়
যে কোনও গরিব দেশে ভিখারিরা সুগায়ক হয়।

কোথা থেকে আসে সুর,
ছেঁড়া-ফ্রক-পড়া এক বেদনার পিছু পিছু,
কুকুরছানার মতো, কোথা থেকে আসে?

খেলা করে, কোলে ওঠে, শূন্যতা ও বাসি রুটি ভাগ করে খায়
তারপর একদিন, রক্তচক্ষু সূর্যের জগতে
কারা এসে বেদনাকে তুলে নিয়ে যায়

কুকুরছানাটি শুধু শুয়ে থাকে, বোবা চোখে,
প্রান্তরের সীমাহীন ঘাসে

একটি দুঃখের কথা, পথে ও বিপথে ঘুরে,
প্রত্যাখ্যাত হতে হতে, গান হয়ে মিলায় আকাশে

মন্তেশ্বরী মেথড

মন্তেশ্বরী মেথড
- রণজিৎ দাশ

হঠাৎ চায়ের প্লেট শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে বলি, 'এই দ্যাখো,
ফ্লাইং সসার'-
ছেলেকে দেখাই। কিন্তু ততক্ষণে ছেলের মায়ের
কান ঘেঁষে সেই প্লেট উড়ে যায় চকিত সন্ত্রাসে
ছবি ও আয়নার ফাঁকে রুদ্ধশ্বাস বাঁক নিয়ে
ঘরের দুর্গম অংশে খানখান হয়ে ভেঙে পড়ে।
ছেলে উল্লসিত। তার মা স্তব্ধ, আতংকিত। পরিণামভয়ে
আমি নিজেও উদ্বিগ্ন।
তখন ছেলেকে কানে কানে বলি,
'ফ্লাইং সসার এলে গ্রহের প্রাণীরা ঠিক এরকমই আচরণ করে।'

নার্স

নার্স
- রণজিৎ দাশ, 


নার্সকে পছন্দ হলে অর্ধেক অসুখ সেরে যায়
শূন্যতা, ডেটলগন্ধ, ভাতে মাছি--সব ভালোলাগে

পুরোপুরি সেরে উঠলে ডিসচার্জ--
সেই ভয়ে ভয়ে
বাকীটা জীবন তাই
অর্ধেক অসুখ নিয়ে হাসপাতালে থেকে যেতে হয়