.

প্রিয় কবি

অঞ্জন সরকার জিমি অমিত চক্রবর্তী অমিতাভ দাশ গুপ্ত অশোক দেব আন্দালীব আবিদ আজাদ আবুল হাসান আল মাহমুদ আলতাফ হোসেন আহসান হাবীব খোন্দকার আশরাফ হোসেন জয় গোস্বামী জীবনানন্দ দাশ টোকন ঠাকুর তানিম কবির দীপন চক্রবর্তী নবনীতা দেবসেন নির্মলেন্দু গুন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পূর্ণেন্দু পত্রী ফয়সল রাব্বি ফারাহ সাঈদ বিনয় মজুমদার বুদ্ধদেব বসু ব্রাত্য রাইসু ভাস্কর চক্রবর্তী মজনু শাহ মন্দাক্রান্তা সেন মহাদেব সাহা মাসুদ খান মুহাম্মদ মরিয়ম মৌ ভট্টাচার্য রণজিৎ দাশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রিফাত হাসান রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ শক্তি চট্টোপাধ্যায় শঙ্খ ঘোষ শহীদ কাদরী শোয়েব শাদাব শ্বেতা চক্রবর্তী সমর সেন সমুদ্র গুপ্ত সরকার আমিন সাইয়েদ জামিল সিকদার আমিনুল হক সুকান্ত ভট্টাচার্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুনীল সাইফুল্লাহ সুবোধ সরকার সুমন রহমান হুমায়ুন আজাদ হুমায়ূন আহমেদ হেলাল হাফিজ

বৈকালিকী

বৈকালিকী
শামসেত তাবরেজী


বইয়ের আড়াল থেকে বের হয়ে এসে
মোড়া টেনে বারান্দায় বসল বিকেল,
আইভিলতার ছায়া মদ-রং রোদ্দুরে মেশে
এক চিলতে হাসি যেন হঠাৎ গড়ানো মার্বেল।

গত বৎসর শীতরাত্রি পড়ে গেছে মনে?
একটি হরিণ হিয়া হারিয়ে কাঁদছিল একা
চন্দন গন্ধ গম্ভীর বিধুর কাননে,
কিন্তু তাতে হাসি কেন? কি বলে ফেকাহ্-

শাস্ত্রগুলি এইসব  স্ববিরোধী ঘটনা ঘটলে?
তোমাকে বুঝে নি কেউ-   উগ্রবাদী সভা,
বুঝ হতে হতে মেদমত্ত গল্প রটলে
তুমিও খোঁপায় পরো নি সামাজিক জবা।

গোপন ঈর্ষার আগুনে তাহলে তুমিও  পুড়ো?
ক্লান্তিকর অধ্যাপকের কাছ থেকে ছোট হয়ে আসো?
তাও কি প্রণয়ই নয়? জ্ঞান থাকে গৃহস্থ পশুরো,
এই কি কার্যকারণ যার জন্য মিহি করে হাসো!

প্রতিদিন নয়, আজ হেসে উঠল প্রচ্ছদ সরিয়ে
ইয়োলো অকার ছাওয়া সংক্ষিপ্ত শান্ত বিকেল,
কিছু আনন্দ-বা থাকে দুঃখের অতীত জড়িয়ে
 ভেবেছ কি সব কথা বলেছে বুড়ো বাইবেল?

সংসার এমনই-  পাশের ফ্ল্যাটের আন্টিটা বলে
অসাচ্চা বাঁচাই সার মা-  আসলে তো পুড়ছ অনলে!

একটি অসম পরকীয়া

একটি অসম পরকীয়া
- মন্দাক্রান্তা সেন



কাল থেকে আসবো না

কাল থেকে আসবো না 
মন্দাক্রান্তা সেন


কেবলই কলহ শুনি

কেবলই কলহ শুনি
- রণজিৎ দাশ


যখন বিষণ্ণ থাকি

যখন বিষণ্ণ থাকি 
- রণজিৎ দাশ 


তুমি শর্মি

তুমি শর্মি
- তানিম কবির 


তুমি শর্মি, আমি তোমাকে, এই বৃষ্টির, কিছু গুণাগুণ, নিয়ে বলব
বৃষ্টি পড়ার দিনটায়, শর্মি তোমাকে ডাকলাম
বললাম, তুমি শর্মি, তুমি বৃষ্টি পড়ার দিনটা
চলো ভৈরব, চলো তিনদিন, তুমি মেঘনার
ঘাটে থাকবা। আরো বললাম, তুমি চাইলে
টানা বৃষ্টির, এই মৌসুম, আশুগঞ্জের উঁচু
প্লাটফর্ম, ধরে হাঁটবা, খালি হাঁটবা। তুমি শর্মি
তুমি পুরনো, কোনো বৃষ্টিতে ভেজা ওয়াগন
ধরে দেখবা। ভিজে পিচ্ছিল, কালো পাটাতন
নিজে বসবার, করে ঘষবা। চারিপার্শ্বে
চির চারপাশ, বসবাসহীন, করে তুলবা, তুমি
আই থিংক, তুমি পারবা। পোষা কচ্ছপটাকে
সঙ্গেই, নিয়ে নিচ্ছো? ব্যাগে থাকল—সেটা
সুন্দর। তাকে রেইনকোট, কিনে দিচ্ছো?
দিও দিও তো! প্রতিনিয়ত, দেখো বৃষ্টি, টানা
বৃষ্টি—ফাঁকে ফোকরে তারই ছাঁটেরা, উড়ে
যাচ্ছে। ঘোলা বাষ্পে, চলো মিশ খাই, চলো
শর্মি, ভেজা রেলব্রিজ, হাতে আমব্রেলা, পায়ে
ফস্কাই।

তার ঘুমহীন চোখে

তার ঘুমহীন চোখে
-দীপন চক্রবর্তী


একদিন পৃথিবীর সমস্ত বেলী
ফেব্রুয়ারীর আলোয় ডুবে গিয়েছিল তার মুখে
সে দাঁড়িয়েছিল শত অশ্বারোহীর হিপোড্রোমের শেষ।
তার আঙুলে জড়ানো মোমসিল্ক ছুঁয়ে দিতে
শত মাতাল জকির সন্তাপ
তাদের ঘুমহীন চোখে
নীল কালিতে লেখা রাতভর বৃষ্টির মত দীর্ঘ কবিতা
পুষ্পনীল ডোর রেখে চলে গ্যাছে অতশীর দেশ......
ইদানিং তার ঘুমহীন চোখে
এরকম লেগে থাকে পদ্যাভ্যাসের প্যারাডিম !

মেয়েদের ন এবং ণ

মেয়েদের ন এবং ণ  
- সুবোধ সরকার
বইঃ দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে (২০১০)

ভদ্র, শিক্ষিত মেয়েদের পুরুষরা খুব একটা পছন্দ করে না।
সিগারেট খাবে,বার বার আঁচল খসে পড়বে
সেইসব মেয়েদের দাম বেশি।
সারা জীবন কেউ তো  কামু কাফকা শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পড়ে না
মাঝে মাঝে কোকশাস্ত্র পড়তে হয়
এক বৈশাখে ডাঁটার চচ্চড়ি আর বিউলির ডাল খুব ভাল লাগে
কিন্তু সেটা ফাগুন মাসে আর কত খেতে পারি?
কচি পাঁঠা আর বৃদ্ধ মেষ কি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে?

আমার ভুল হয়েছিল কোথায় সেটা বলি
বনবিহারী নাগ এবং বিন্দুবালা মুখার্জির মাঝখানে
যেটুকু গোধূলি অবশিষ্ট ছিল
তার উপদ্রুত উপনিবেশ থেকে হাতে ভদ্কার  গ্লাস নিতে নিতে
একুশ বছর বয়সের মেয়েটি আমাকে একদিন চোখ মারল।

আমার ভুল হয়েছিল কোথায় সেটা বলি
আমি বাথরুমে ঢুকে চোখেমুখে জল দিলাম
মাথায় চাঁটি মেরে আয়নাকে জিজ্ঞাসা করলাম ঠিক দেখেছি?
মানুষ যে হাতে ভাত খায় সেই হাতেই যেহেতু মৈথুন করে
আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব হত দিয়ে
একটা বড় পেগ গলায় ঢেলে মেয়েটিকে বললাম
আপনার মোবাইল নম্বরটা পেতে পারি?
আমি টেবিলে কাগজ রেখে লিখছিলাম,মেয়েটি বললঃ 
উঠুন কাগজটি আমার পিঠে রেখে লিখুন।

আমার ভুল হয়েছিল কোথায় সেটা বলি
আমি সারদা মাকে বলেছিলাম আমার দিকে তাকিয়ো না, মা
আমি তোমার দুষ্টু ছেলে ছিলাম না, হয়ে গেলাম
আমি মদ খেতাম না, খেতে শুরু করেছি
আমি বর্ষার রাতে বিভূতিভূষণ, ব্যাঙ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনে কাটাতাম

এখন সারারাত মাস্টার করেছি আর রামকৃষ্ণ পড়েছি। 

স্পাইনাল রড দিয়ে প্রেম নেমে আসছে হু হু করে
বাঁশ ধরে যেমন নেমে আসে বাঁদর।
পেটের ভেতরে একটা চামচ ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিছুতেই যাচ্ছে না
ভারত থেকে যেমন কিছতেই উপনিবেশ যেতে চাইছে না।

আমার ভুল হয়েছিল কোথায় সেটা বলি
আমি মেয়েটাকে বললাম তোমার চোখদুটো খুব সুন্দর, কুয়াশাময়
কিন্তু তুমি হংকং যেতে চাইছ কেন?
আমার বয়স হয়েছে,মধূপূড় চলো
মেয়েটি সেগারেট ধরিয়ে যতটা সম্ভব ঝুঁকে জুজু দেখিয়ে
আমার মুখে ধোঁয়া ছেড়ে বলল : তুমি হরলিক্স খাও। 
আমাকে এত অপমান? জিন্দেগিতে কেউ আমাকে হরলিক্স খেতে বলেনি
আমি মেফিস্টফিলিসকে মেনে নিতে পারি,
হিটলারকেও সহ্য করেছি
কিন্তু মেয়েদের লঙ্কা সহ্য করতে পারছি না।
ন আর ণ মুচকি হাসে,পৃথিবীটা সরষের তেল না হুইস্কি বুঝতে পারিনা।

আমার ভুল হয়েছিল কোথায় সেটা বলি
মেয়েটি মোটেও আমাকে চোখ মারেনি, সে চোখ মেরেছিল আমার নিয়তিকে।

সে দেখতে চেয়েছিল আমার নিয়তি ঘুমিয়ে পড়েছে, না
কালবাউসের মতো এখনও লাফায়।
নিয়তি, নেমেসিস আর লিবিডো- এরা তিন বোন
ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক, মহামারি হোক, মানুষ মৈথুন করবেই।

আর বলিহারি দিই ওদের তিন বোনকে
হাতে ভদ্কার গ্লাস তুলে নিতে নিতে, অবশিষ্ট গোধূলি থেকে 
ওরা তিন বোন তিন উপনিবেশ থেকে তিনজন পুরুষকে চোখ মারবেই।
এরপর পৃথিবীর মান চিত্রের ওপর দাঁড়িয়ে
কয়েকজোড়া পা ঠিক করবেঃ 

পৃথিবীটা সরষের তেল নাকি হুইস্কি?
                     # 










যদি ইচ্ছে করে

 যদি ইচ্ছে করে
 - নবনীতা দেবসেন 

 -“দিয়ে দাও, যে-শাড়ি পরবে না।’’
 -“তা কি হয়? যদি কোনদিন
                            ইচ্ছে করে?’’

 -“ ছেড়ে দাও, যে প্রেম করবে না।’’
 -“সে কি হয়? যদি কোনদিন
                         ইচ্ছে করে?’’
                # 

একটি সবুজ মেয়ে


একটি সবুজ মেয়ে
- সুবোধ সরকার
বইঃ চোদ্দ নম্বর ডেডবডি (২০০৮)

একটি সবুজ মেয়ে এসেছিল আমার জীবনে
সেই সূত্রে মেয়েটির পেছনে পেছনে
একটি সবুজ চূর্ণী এসেছিল, এসে বলেছিল
স্বীকার করেছি আমি, পাপ ছিল মনে

একটি সবুজ মেয়ে এসেছিল আমার জীবনে
সেই সূত্রে মেয়েটিকে ফলো করে করে
সবুজ পুলিশ এল সবুজ থানায়
কেউ কিছু পায় নাকি পুলিশকে ধরে?

একটি সবুজ মেয়ে এসেছিল আমার জীবনে
তাতা থই, তেরে কেটে তাক তেরে কেটে
সেই সূত্রে মেয়েটির যতিচিহ্ন চিনে
সবুজ দালাল এল হরিতে দিনে।

পুলিশ তোমাকে আমি দিইনি হৃদয়
তাই এত ভয়।
        #